প্রচ্ছদ > লাইফস্টাইল >

বর্ষাকালে ত্বকের যত্নে বিশেষ সতর্কতা, যা বলছেন বিশেষজ্ঞরা

article-img

বর্ষাকালে বাতাসে আর্দ্রতার মাত্রা বেড়ে যাওয়া এবং শরীরে দীর্ঘ সময় ঘাম জমে থাকার কারণে ত্বকের বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা বেড়ে যায়। এ সময় ছত্রাকজনিত সংক্রমণ, ব্রণ ও ঘামাচির মতো সমস্যা অনেকের মধ্যেই দেখা যায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্ষার আর্দ্র পরিবেশ ত্বকের প্রাকৃতিক সুরক্ষা স্তর বা স্কিন ব্যারিয়ারকে দুর্বল করে দিতে পারে। ফলে ত্বকের বাইরের স্তর ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে নানা ধরনের ত্বকের সমস্যার সৃষ্টি হয়।

চর্মরোগ বিশেষজ্ঞরা জানান, বর্ষাকালে ত্বক সুস্থ রাখতে মৃদু ও সাবান-মুক্ত, পিএইচ-ভারসাম্যযুক্ত ক্লিনজার ব্যবহার করা উচিত। এতে ত্বকের প্রয়োজনীয় প্রাকৃতিক তেল অক্ষুণ্ন রেখে ঘাম, অতিরিক্ত তেল ও ময়লা পরিষ্কার করা সম্ভব হয়।

এ সময় অতিরিক্ত মুখ ধোয়া, কড়া সাবান, স্ক্রাব বা খুব গরম পানি ব্যবহার না করারও পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ এসব অভ্যাস ত্বকের আর্দ্রতা কমিয়ে দিয়ে এর সুরক্ষা স্তরকে আরও দুর্বল করে তুলতে পারে।

ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে সেরামাইড, গ্লিসারিন, হায়ালুরোনিক অ্যাসিড কিংবা নিয়াসিনামাইডসমৃদ্ধ হালকা, সুগন্ধমুক্ত ও নন-কমেডোজেনিক ময়েশ্চারাইজার ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এসব উপাদান ত্বকের ক্ষতিগ্রস্ত সুরক্ষা স্তর পুনর্গঠনে সহায়ক।

অনেকেই বর্ষাকালে সানস্ক্রিন ব্যবহার করেন না। তবে বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, মেঘলা আকাশ থাকলেও অতিবেগুনি রশ্মি ত্বকে পৌঁছায়। ফলে পিগমেন্টেশন, অকাল বার্ধক্যের লক্ষণ এবং অন্যান্য ত্বকের সমস্যার ঝুঁকি থেকে যায়। তাই প্রতিদিন অন্তত এসপিএফ ৩০ বা তার বেশি ব্রড-স্পেকট্রাম সানস্ক্রিন ব্যবহার করা উচিত।

এ ছাড়া বৃষ্টিতে ভিজে গেলে দ্রুত ভেজা পোশাক বদলে ফেলা, শরীরের ভাঁজ শুকনো রাখা এবং বাতাস চলাচল করতে পারে এমন পোশাক পরার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। একই সঙ্গে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া স্টেরয়েডযুক্ত কম্বিনেশন ক্রিম ব্যবহার না করারও আহ্বান জানানো হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ত্বকে লালচে ভাব, চুলকানি, খোসা ওঠা বা বারবার ফুসকুড়ির মতো সমস্যা দীর্ঘদিন ধরে থাকলে অবহেলা না করে দ্রুত একজন চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হওয়া উচিত। কারণ সুস্থ ত্বকের মূল ভিত্তি হলো এর প্রাকৃতিক সুরক্ষা স্তর, যা সঠিক যত্নের মাধ্যমে সুরক্ষিত রাখা সম্ভব।